রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রশাসন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রশাসন

মার্কিন জ্বালানি মজুত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে যে তাদের কৌশলগত মজুত বা রিজার্ভ থেকে ছাড় করা তেলের প্রথম অংশ চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাজারে পৌঁছাবে। 

এর আগে ওয়াশিংটন মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে এই বিশাল পরিমাণ তেল সরবরাহের ফলে সে দেশের করদাতাদের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে না। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ-এর ৩২টি সদস্য দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সসহ অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মজুত ছাড়ার ঘটনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।আগে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়ে সমালোচনা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

 কেনটাকিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন যে আমেরিকা এবং বিশ্বের ওপর আসা বর্তমান হুমকি মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সংঘাতের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কাজ শেষ না করে তারা পিছু হটতে চান না। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার ভূগর্ভে সংরক্ষিত এই রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছিল, কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত এই পথে হাঁটতে হয়েছে।

মূলত হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র থেকে বিশ্ববাজারে যাওয়ার মূল পথটি ব্যবহার করা কমিয়ে দেওয়ায় এই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ বিষয়ক সচিব ডগ বারগামও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ কমবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।