মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। রমজানের শেষ দশকের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মসজিদের ভেতরে ইবাদত করার সুযোগ না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বাইরের সড়কেই নামাজ আদায় করছেন। জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং পবিত্র এই স্থাপনাটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে ইসরাইল।
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বিরোধী সামরিক অভিযানের পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী আল-আকসা মসজিদের সীমানায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার ফলে ফিলিস্তিনিরা নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।
বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে লাখ লাখ মানুষের সমাগমে মুখরিত থাকত আল-আকসা প্রাঙ্গণ। কিন্তু এবার নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা মসজিদ এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যা তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার।জেরুজালেমের প্রবীণ বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান যে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবি নামাজ পড়া মিস করেননি। কিন্তু এবারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তিনি চরমভাবে ব্যথিত।
যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ রমজানের শুরু থেকেই পশ্চিম তীরের মানুষের যাতায়াত সীমিত করে দিয়েছিল। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ লাখ মানুষের জমায়েত হতো সেখানে এবার মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবুও সব বাধা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইমানি দৃঢ়তা বজায় রেখে রাজপথেই নামাজ আদায় অব্যাহত রেখেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন