মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে তিনি বলেন যে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে এবং চলমান সামরিক অভিযানে মিত্র দেশগুলো যদি পর্যাপ্ত সহায়তা না দেয় তবে ন্যাটোর সামনে খুবই অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ন্যাটোর কার্যক্রমকে একটি একমুখী রাস্তা হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মিত্রদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ালেও যখন আমেরিকার সাহায্যের প্রয়োজন হয় তখন তারা পিছুটান দেয় যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব কয়েক হাজার মাইল হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটন সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে যা আসলে করার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
অথচ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিপজ্জনক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লড়াইয়ে মিত্ররা একই রকম সহযোগিতা করছে না। মিত্রদের কাছ থেকে ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানান যে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই আমেরিকাকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে হবে। তিনি মনে করেন শর্তযুক্ত কোনো মিত্রতা ন্যাটোর মূল লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের ওপরও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটেনকে এক নম্বর মিত্র বিবেচনা করা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে তাদের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া তাকে হতাশ করেছে। ট্রাম্পের ভাষায় মার্কিন বাহিনী যখন ইরানের সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে তখন ব্রিটেন দুটি জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিলম্বিত প্রস্তাবকে উপহাস করে তিনি বলেন যে সাহায্যের প্রয়োজন ছিল জয়ের আগে জয়ের পরে নয়। মিত্রদের এমন গড়িমসি ন্যাটোর কার্যকারিতা ও বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করছে বলে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ট্রাম্প এবার বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কৌশল হাতে নিয়েছেন। এই লক্ষ্যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে নির্ধারিত সম্মেলনটি পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন। ট্রাম্পের যুক্তি হলো চীনসহ এশিয়ার দেশগুলো হরমুজ প্রণালির বড় সুবিধাভোগী। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিরাপদ রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই নেওয়া উচিত। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে যা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন