মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা ও মাইনরিটি লিডার চাক শুমার। গত এক মাসেরও কম সময়ে দেশটিতে তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শুমার উল্লেখ করেন যে মাত্র এক মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৩ ডলার। বর্তমানে তা লাফিয়ে ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই শীর্ষ নেতার মতে বর্তমান এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জন্য একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই দায়ী।মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সামরিক সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই কড়া বিরোধিতা করে আসছেন চাক শুমার।
তিনি দাবি করেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের অপরিণামদর্শী সামরিক নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে এই চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শুমার অবিলম্বে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এখন মার্কিন নাগরিকদের পকেটে পড়ছে যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি ও ইরান সংকটের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয় বরং সারা বিশ্বেই তেলের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সিনেটর শুমার তার পোস্টে অভিযোগ করেন যে ট্রাম্পের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠছে। তিনি মনে করেন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনকে যুদ্ধের পথ পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এই ডেমোক্র্যাট নেতা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন