মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই তিনি ১০০ দফার একটি বিশাল সংস্কার কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন।
শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে প্রথাগত পরীক্ষার চাপ কমাতে এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করার লক্ষ্যে নেপাল সরকার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মেধা ও অগ্রগতি যাচাই করতে বিকল্প এবং মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সেশন জট কমিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সংগতি রেখে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক দল অনুমোদিত সকল ধরনের ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন করা হবে, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রকৃত দাবি নিয়ে কাজ করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নেপালের শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক বা অনার্স পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এতদিন নাগরিকত্ব সনদের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের পেনশন এবং রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে গতিশীল করতে আগামী অর্থবছর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সরকারের এই ব্যাপক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শিক্ষার্থীবান্ধব এবং গবেষণাধর্মী করে গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নেপালের এই সাহসী শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন