বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

নৌ কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

নৌ কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান

নিহত কমান্ডার তাংসিরি

দীর্ঘ চারদিন ধরে চলমান জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের নৌ কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে তেহরান। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব ছিল ইরান। সোমবার দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বিশ্ববাসীকে।

আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে জানানো হয়, কমান্ডার তাংসিরি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ঢাল শক্তিশালী করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। 

বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে সংগঠিত করার সময় শত্রুপক্ষের তীব্র আঘাতের মুখে পড়েন তিনি। আঘাতের ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে বিবৃতিতে হামলার নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের সামরিক কাঠামোতে আলিরেজা তাংসিরি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি তদারকির মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তার কমান্ডে থাকা অবস্থায় ইরানের পানিসীমা দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে তিনি বারবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

কমান্ডার তাংসিরির মৃত্যু নিয়ে আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কমান্ডারের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও নৌবাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না। শত্রুকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত ইরান তাদের সামরিক অভিযান থেকে বিশ্রাম নেবে না বলেও অঙ্গীকার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের নিহত হওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ইরানের সীমানার কাছে মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় আলিরেজা তাংসিরির বড় ভূমিকা ছিল। সেই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাকে ও আইআরজিসি-র অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। একজন স্পষ্টভাষী এবং রণকৌশলী কমান্ডার হিসেবে পরিচিত তাংসিরির প্রয়াণ ইরানের সামরিক শক্তির জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।