বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি খুলতে ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

হরমুজ প্রণালি খুলতে ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কঠোর শর্তারোপ করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত এই জলপথটি বন্ধই রাখা হবে। রোববার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

তেহরানের এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাদের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। 

তিনি জানান, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে ট্রানজিট ফি আদায়ের মাধ্যমে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হলে তবেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। মূলত ইরান তার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে ব্যবহার করে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন এবং বেশ কিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। এর জবাবে ইরানি এই উপদেষ্টা বলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে ট্রাম্প চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এমন অর্থহীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করছেন বলে দাবি করে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অটল থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালি বন্ধ থাকার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ক্রমশ বাড়লেও দেশটি এখন পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে কোনো নমনীয়তা দেখায়নি। বরং ট্রানজিট ফি’র দাবিতে অটল থেকে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।