এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই ঐতিহাসিক বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। সেখানে তারা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের এই বৈঠকে টেকসই শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে উভয় নেতাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মাধ্যমে শান্তি ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। ইসলামাবাদ মনে করে, এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই এবং পাকিস্তান সেই আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন।
তারা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সব ধরনের লজিস্টিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করবে। পাকিস্তানের এই সক্রিয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী দেশগুলোর প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের নতুন শর্ত এবং ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মধ্যেও পাকিস্তান দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছে।
ইসলামাবাদের এই মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পাকিস্তান এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতই থামাবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামাবাদের কৌশলগত গুরুত্বকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ চলাচল না করার মতো শর্তের মধ্যেই এই শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববাসীর নজর এখন ইসলামাবাদের এই শান্তি সংলাপের ফলাফলের দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন