শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে পরিণাম হবে ভয়াবহ: ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে পরিণাম হবে ভয়াবহ: ইইউ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের জন্য তার পরিণাম ‘বিপর্যয়কর’ হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইইউ-র পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস তজিৎজিকোস্টাস এই উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা প্রদান করেন। 

গত কয়েক দিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ থাকার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য এল।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে এদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন মন্ত্রীদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তজিৎজিকোস্টাস জানান, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে ইউরোপের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ইতিমধ্যে জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউ বর্তমানে বিকল্প পথ খুঁজছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ভিন্ন উপায়ে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও জনসাধারণের মধ্যে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি বলে আশ্বস্ত করেছেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তজিৎজিকোস্টাস বলেন, জ্বালানি সরবরাহে টানপড়েন থাকলেও আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ এখন পর্যন্ত নেই। 

তাই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বা যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে জরুরি কোনো সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছে না কমিশন। তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি রাখা হবে।উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করা হয়। 

এই প্রণালিতে যেকোনো ধরণের বাধা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরণের ধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করছে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিমান খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।