সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মার্কিন প্রতিনিধিদল আসার আগেই পাকিস্তান ছাড়ল ইরানিরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

মার্কিন প্রতিনিধিদল আসার আগেই পাকিস্তান ছাড়ল ইরানিরা

ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল দিনভর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। তবে নাটকীয় বিষয় হলো, ইরানি প্রতিনিধিরা পাকিস্তান ছাড়ার পরপরই শোনা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের পথে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এখন বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভেদ এই কূটনৈতিক গতিবিধির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের এই প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদ ত্যাগের আগে পাকিস্তান সরকারের হাতে একটি আনুষ্ঠানিক দাবিনামা পেশ করেছে। 

এই নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত অবসানের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট আগেই জানিয়েছিলেন যে, শনিবার মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছাবে। এই বিশেষ প্রতিনিধিদলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংকট নিরসনে একটি নির্ভরযোগ্য ‘কূটনৈতিক সেতু’ হিসেবে কাজ করছে। যদিও ইরান সরাসরি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে, তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলটি মূলত ইরানি প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে এবং সংঘাত অবসানের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্যই ইসলামাবাদে আসছে। তেহরান তাদের দাবিনামায় নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের ওপর থেকে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাকিস্তান সরকার এখন ইরানি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া এই বার্তাগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করবে। 

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতা এখন বিশ্বরাজনীতির প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য ও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি।