মে ১৪, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যকার তীব্র মতপার্থক্যের কারণে যৌথ চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র জারি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেম গরিবাবাদীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে মূলত “যোগাযোগগত সমস্যা” তৈরি করেছে, যা সামগ্রিক আলোচনা প্রক্রিয়াকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
অন্য দিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি দাবি গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় তিনি এই উপসাগরীয় দেশটি সফর করেছিলেন। আমিরাত কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উল্লেখ করেছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যারা ইসরায়েলের সাথে ষড়যন্ত্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তিনি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা সবাই মিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “অবৈধ আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে কড়া নিন্দা জ্ঞাপন করে।
পাশাপাশি আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাদের অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে হবে এবং এর জন্য দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ বোঝাপড়া ও একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন