জুন ১, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
গত মাসে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে চীন নির্মিত কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানকে স্টিলথ প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার রাডার সিস্টেম দিয়ে গোপনে সহায়তা করে থাকতে পারে বেইজিং।
এই সরঞ্জামগুলো মার্কিন ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতাকে নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে পেন্টাগন মনে করছে।বিমান ধ্বংসের ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবৃতিতে জেটটি ম্যানপ্যাডস ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন।
প্রায় ৭ ফুট লম্বা ও ৪০ পাউন্ড ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান লক্ষ্য করে ছুড়ে মারা যায়। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম শত্রুপক্ষের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ায় ঘটনাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু আছড়ে পড়ার পূর্বেই নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন, যাদের পেন্টাগনের ৩৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ জাগ্রোস পার্বত্য অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়।চীন ঠিক কখন ইরানকে এই সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তবে ইরান সত্যিই চীনা তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকলে তা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেইজিং তেহরানকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীকে ট্র্যাক করতে স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারের অনুমতিও দিয়েছিল। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানে কোনো অস্ত্র না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবুও আমেরিকা তিনটি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন