জুন ৩, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে চূড়ান্তভাবে দাফনের জন্য রাজধানী তেহরানসহ ৩টি প্রধান শহরে পর্যায়ক্রমে তিন দিনব্যাপী এক বৃহৎ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইরান। বুধবার সকালে তেহরানের স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ বৈঠকের পর এই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
খামেনির এই অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানটি যাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায় সে লক্ষ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে যৌথভাবে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তেহরানের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে রাজধানী তেহরানে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী একটি বিশেষ শোক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি বেশ জোরদারভাবে চলছে।
এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল শোক সমাবেশে প্রায় ২ কোটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম পবিত্র মাস মহররমের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে যা মূলত চলতি জুনের মাঝামাঝি সময়ে পড়বে।ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র মাশহাদ শহরেই খামেনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে ইমাম রেজার মাজার সংলগ্ন এলাকায় তাঁর মরহুম পিতাকেও দাফন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েরির এক আকস্মিক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের এই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা নিহত হন। খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল যা সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়। এর আগে গত ৪ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তা স্থগিত করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন