মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ খামেনি অশ্রুভেজা বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

চিরনিদ্রায় আয়াতুল্লাহ খামেনি অশ্রুভেজা বিদায়

ছবি - সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটিতে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটেছে। শোক, অশ্রু আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশটির মানুষ তাদের নেতাকে চিরবিদায় জানিয়েছেন।মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক হয়ে মরদেহবাহী কফিন মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে খামেনির মরদেহ ইমাম রেজা (আ.) মাজারে নেওয়া হয়। মরদেহবাহী গাড়ির দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং তাদের পেছনে কালো পোশাক পরা হাজারো শোকাহত মানুষ ইরানের পতাকা ও খামেনির ছবি হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম নিশ্চিত করতে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি ও আদর্শিক ঐক্য প্রদর্শনের একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইরান এখন কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে দানা বেঁধেছে মতভেদ। যদিও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা ঘোষণা করেছে, তবুও তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ইরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, যে হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরেও তার জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রাখা হয়েছে।

মাশহাদের এই শোকাবহ পরিবেশেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। শোকাহত জনতার একাংশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের শপথ নিয়ে স্লোগান দিয়েছেন। জনতার ভিড় এতোটাই বেশি ছিল যে, শেষ অংশে হেলিকপ্টারের সাহায্যে কফিন মাজারের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে হয়। বড় ছেলে মোস্তফা খামেনির ইমামতিতে জানাজা শেষে কফিন মাজারের ভেতর সমাহিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত রূপদানকারী খামেনির বিদায়ের পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও নানা জল্পনা চলছে।