জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:২১ এএম
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচিকে ঘিরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন।দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় এখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শহরে কয়েকশ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যন্তর মন্তরের আশপাশের সড়ক যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার আন্দোলনের সমর্থনে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে দলটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচি চলবে।
গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির সূচনা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ থেকেই এই প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনকারীদের বিশৃঙ্খলাকারীদের বি-টিম বলে আখ্যা দিয়ে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সরকারও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি।
সোমবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অনেকে জাতীয় পতাকা বহন করছিলেন, কেউ শান্তির প্রতীক হিসেবে হাতে প্লাস্টিকের গোলাপ নিয়ে অংশ নেন। সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার প্রতিবাদে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার সাম্প্রতিক শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলে, অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদেও বিক্ষোভ হয়েছে। গত মে মাসে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষা বাতিল হয়। পরে ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পরিবারের দাবি। শনিবারের ঘটনার পর আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, এখন তারা শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন