আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড। চলতি বছরের মে ও জুন মাসের এই দুই মাসে দেশটিতে তাপজনিত নানা কারণে প্রায় দুই হাজার নয়শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আগস্ট মাসে গরমের তীব্রতা আরও বাড়লে ২০২২ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডও পেছনে ফেলে দিতে পারে।ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, মে ও জুনের বিভিন্ন দফায় চলা তীব্র তাপপ্রবাহে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে গ্রীষ্মকালের আবহাওয়া এখন আরও বেশি চরম রূপ ধারণ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে দাবানল ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির দমকল বাহিনী। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভোগা রোগীরা এই তীব্র গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ।বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এর চেয়েও অনেক বেশি তাপমাত্রা দেখা গেলেও ইংল্যান্ডে মাত্র পঁয়ত্রিশ থেকে আটত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেই এত মানুষের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে ঘরবাড়ির ভিন্ন অবকাঠামো। বেশিরভাগ বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বা পর্যাপ্ত ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতরও তীব্র গরমের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ঠান্ডা আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হওয়ায় মানুষের শরীরও হঠাৎ এই তাপমাত্রা সহ্য করতে পারছে না।
ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে কেবল শীতকালেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হতো।কিন্তু এখন অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ মানুষের ভিড় বাড়ায় গ্রীষ্মকালও সমানভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন