বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনারা ইতিমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশটিতে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সক্ষমতা ও পেশাগত ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার সামরিক, কূটনৈতিক এবং জনগণভিত্তিক ঐতিহাসিক গভীর সম্পর্কের ধারাবাহিকতাতেই আজকের মক্কা প্রতিরক্ষা জোট গড়ে উঠেছে।

এর আগে সোমবার রিয়াদে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একমত পোষণ করে। ত্রিপক্ষীয় এই সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হলো।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যৌথ অবস্থানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যৌথ কমিটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কর্মকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব জাতীয় আইন অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

পাশাপাশি সৌদি আরবে দ্রুত বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর ফলে আঞ্চলিক যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলা ও আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতি, বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় এবং সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।

চুক্তির মূল ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে জোটভুক্ত কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর যেকেনো ধরনের বহিরাগত হামলাকে জোটের সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিরোধ ও যৌথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।