শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
আন্তর্জাতিক

আমেরিকার নির্বাসন চুক্তির পর দক্ষিণ সুদান থেকে লাওসে পৌঁছালেন থংক্সে মিলাকৌত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

আমেরিকার নির্বাসন চুক্তির পর দক্ষিণ সুদান থেকে লাওসে পৌঁছালেন থংক্সে মিলাকৌত

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাসন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুদানে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর অবশেষে লাওসে ফিরে গেছেন থংক্সে মিলাকৌত। ১৯৯৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক জার্মান পর্যটককে হত্যার অপরাধে ১৭ বছর বয়সে দণ্ডিত এই ব্যক্তি গত বছরগুলোতে ব্যাপক আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। বর্তমানে উনপঞ্চাশ বছর বয়সি মিলাকৌত দীর্ঘ এক বছর দক্ষিণ সুদানের জুবা শহরে অবরুদ্ধ থাকার পর ভিয়েনিয়ানে পৌঁছান।

এই ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৪ সালের মে মাসে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইডিলওয়াইল্ডের কাছে ডাকাতির সময় ৬২ বছর বয়সি গিসেলা ফ্লেজারকে গুলি করে হত্যা এবং তাঁর স্বামী ক্লাউসকে আহত করেছিলেন মিলাকৌত। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস সূত্রে জানা যায়, রিভারসাইড কাউন্টিতে বিচার শেষে ১৯৯৫ সালে তাঁকে প্রথম ডিগ্রি হত্যা, হত্যার চেষ্টা এবং ডাকাতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাঁকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০১২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় তাঁর সাজা পুনর্বিবেচনার পথ খোলে। গত ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার প্যারোল বোর্ড তাঁকে প্যারোল মঞ্জুর করে এবং মে মাসে গভর্নর গ্যাভিন নিউজম সেই মঞ্জুরি পর্যালোচনার জন্য পাঠান।

২০২৩ সালে কারামুক্তির পর মিলাকৌত একজন রেস্তোরাঁ রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট গত বছরের ২৬ জানুয়ারি তাঁকে আবারও হেফাজতে নেয়। ১৯৮০ সালে পরিবারসহ লাওস থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার পর শিশু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন মিলাকৌত। তাঁর আইনজীবী জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে দক্ষিণ সুদানে নির্বাসিত করার আগেই তিনি নিজ দেশ লাওসে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন।

২০২৫ সালের মে মাসে মিলাকৌতসহ আটজন পুরুষকে আফ্রিকার দিকে একটি ফ্লাইটে তোলা হয়েছিল। কিন্তু মাঝআকাশেই এক ফেডারেল বিচারক দক্ষিণ সুদানে তাদের নির্বাসন ব্লক করে দেন এবং বিমানটিকে জিবুতিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনেন। ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ব্রায়ান মারফি পরে রায় দেন যে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মাত্র বারো ঘণ্টা নোটিশ দিয়ে এবং আইনি সহায়তার সুযোগ না দিয়েই ওই ব্যক্তিদের পাঠিয়ে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে তাদের অপসারণের পথ উন্মুক্ত হয় এবং সামরিক বিমানে করে তাদের জুবাতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের সশস্ত্র পাহাড়ার অধীনে একটি ঘেরা বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল।

দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি লাওস সরকারের সাথে সমন্বয় করে মিলাকৈত্রের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করে। লাওসের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। মিলাকৌতের এই লাওস প্রত্যাবর্তনকে তাঁর পরিবারের জন্য একটি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মিলাকৌতের প্রস্থান সত্ত্বেও এখনও পাঁচজন তৃতীয় দেশের নাগরিক জুবাতে আটকে রয়েছেন। এর মধ্যে মূল আটজনের মধ্যে চারজন এবং পরে যুক্ত হওয়া একজন কঙ্গোর নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাকিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।