অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পশ্চিমা আধিপত্যবাদী বক্তব্যের জবাবে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের পথ অনুসরণকারী আধুনিক পশ্চিমা শক্তির পরিণতি রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের মতোই লজ্জাজনক পরাজয় হবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের শেষ পর্যন্ত হাঁটু গেড়ে বসতে হবে।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে এনে তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, ইতিহাসজুড়ে ইরানিরা নিজেদের নিখিল বিশ্বের অধিপতি দাবি করা শক্তির ঔদ্ধত্যের মুখোমুখি হয়েছে। সেসব আগ্রাসী শক্তি প্রাচীন সভ্যতাগুলোকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা আগুন আর ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত ধুলোয় মিশে লজ্জা নিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে। রুবিওকে সতর্ক করে তিনি লেখেন, যারা আলেকজান্ডারের উত্তরাধিকার ধরে রাখতে চায়, তাদের পরিণতি ভ্যালেরিয়ানের চেয়ে আলাদা হবে না; তাদের নতজানু হতে হবে।
গত ৮ অক্টোবর রুবিওর দেওয়া এক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ এসব কথা জানান। রুবিও দাবি করেছিলেন, পশ্চিমা বিশ্ব দীর্ঘ ঘুম ভেঙে জেগে উঠে হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে প্রজ্বলিত হওয়া আগুন পুনরায় জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম।
সমালোচকদের মতে, রুবিওর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীন জাতিগুলোর ওপর মার্কিন কর্তৃত্ব ও আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার পুরনো রূপরেখাই সামনে এসেছে। সভ্যতার রূপান্তরের ছুতায় অন্য ভূখণ্ডগুলোকে ওয়াশিংটনের পদানত করার কৌশলের নিন্দা জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকেরা। এদিকে `সভ্যতার যুদ্ধ` নিয়ে রুবিওর মন্তব্যের জবাবে ইরানের সাবেক শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব ও নীতিনির্ধারক মোহসেন রেজায়িও রোমের ঐতিহাসিক পরাজয়ের নজির তুলে ধরে সতর্ক করেন।
গালিবাফের বক্তব্যে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের উল্লেখ ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২৬০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত এডেসার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাচীন পারস্যের সাসানীয় সম্রাট প্রথম শাপুরের হাতে সসৈন্যে বন্দি হন ভ্যালেরিয়ান। বৈশ্বিক সমর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র রোমান সম্রাট যিনি যুদ্ধবন্দি হিসেবে পারসিকদের হাতে আটক হয়েছিলেন।
আলেকজান্ডার ও ভ্যালেরিয়ানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সাময়িক অগ্রযাত্রার মোহ থাকলেও যেকোনো বহিরাগত ঔদ্ধত্যের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে করুণ ব্যর্থতায়।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের উত্তাল আবহে এই তীব্র বাদানুবাদ সামনে এল। সামরিক আগ্রাসন, তীব্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টার মাধ্যমে তেহরানকে পদানত করার মার্কিন নীতি কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করে ইরানি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, সাম্রাজ্যবাদী হুমকি ও আলটিমেটাম মূলত অতীতের ব্যর্থ অভিযানেরই আরেকটি পুনরাবৃত্তি।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন