রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চিকিৎসকদের হাতের লেখা ঠিক করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৭:৪৬ পিএম

চিকিৎসকদের হাতের লেখা ঠিক করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি - সংগৃহীত

ডাক্তারদের 'প্যাঁচানো' হাতের লেখা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে রসিকতা চলে, তা এবার গুরুত্ব পেল ভারতের বিচারালয়ে। ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের এক আদেশে স্পষ্টাক্ষরে লেখার গুরুত্ব জোরালোভাবে সামনে এসেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, "সহজে পাঠযোগ্য ব্যবস্থাপত্র একটি মৌলিক অধিকার", কারণ এটি মানুষের জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

আদালত এই আদেশের মাধ্যমে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে সব চিকিৎসককে বড় হাতের অক্ষরে (ক্যাপিটাল লেটার) স্পষ্টভাবে ব্যবস্থাপত্র লিখতে হবে। শুধু তাই নয়, আদালত দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থাপত্র ব্যবস্থা চালু করার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে।

এখানে একটা জিনিস জানলে অবাক হবেন: আদালতের এই আদেশটি এমন এক মামলায় এসেছে, যার সঙ্গে লেখালেখির সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না। মামলাটি ছিল ধর্ষণ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে। বিচারপতি জসগুরুপ্রীত সিং পুরি মামলার শুনানি চলাকালে ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনটি দেখেন। প্রতিবেদনটি এক সরকারি ডাক্তার লিখেছিলেন, কিন্তু লেখাটি বিচারপতির কাছে সম্পূর্ণ দুর্বোধ্য মনে হয়।

বিচারপতি পুরি তাঁর আদেশে লেখেন, "এই লেখা আদালতের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, কারণ একটি শব্দ বা অক্ষরও পড়ার মতো ছিল না।" তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রযুক্তি ও কম্পিউটার যখন এত সহজলভ্য, তখনও সরকারি চিকিৎসকেরা হাতে এমন ব্যবস্থাপত্র লিখছেন, যা ওষুধের দোকানের বিক্রেতা ছাড়া হয়তো আর কেউই পড়তে পারে না—এটা খুবই হতাশাজনক।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতি পুরি ডাক্তারদের হাতের লেখা স্পষ্ট করার নির্দেশ দেন এবং মেডিকেল কলেজের পাঠ্যসূচিতে হাতের লেখার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল বিষয়টি হাতের লেখার সৌন্দর্য নয়, বরং রোগীর নিরাপত্তা। একটি ব্যবস্থাপত্রে সামান্য অস্পষ্টতা বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে তার ফল মর্মান্তিকও হতে পারে।

তথ্য বলছে, ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের (আইওএম) ১৯৯৯ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর চিকিৎসাজনিত ভুলের কারণে যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, তার মধ্যে প্রায় সাত হাজার মৃত্যুর কারণ ছিল দুর্বোধ্য হাতের লেখা।ভারতে দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলেও, অতীতে ব্যবস্থাপত্র ভুল পড়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

যেমন, একই রকম নামের ওষুধ হওয়ায় ব্যথানাশকের বদলে ডায়াবেটিসের ওষুধ ভুল করে খাওয়ার পর এক নারীর খিঁচুনি শুরু হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) প্রেসিডেন্ট ড. দিলীপ ভানুশালীও এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে ইচ্ছুক। তিনি মনে করেন, বেশিরভাগ চিকিৎসকই খুব ব্যস্ত থাকেন, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকে, যা খারাপ হাতের লেখার একটা কারণ।

তবে তিনি তাদের সদস্যদের সরকারি নির্দেশনা মেনে বড় হাতের অক্ষরে ব্যবস্থাপত্র লিখতে সুপারিশ করেছেন। কলকাতার একটি বিখ্যাত ফার্মেসি প্রধানও স্বীকার করেন, এখনো তাদের দোকানে দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র আসছে, যা নিয়ে মাঝে মাঝে ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।