অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৫:০১ পিএম
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ফের ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)। এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ নৌযানটিও ইসরাইল বাহিনী দখলে নিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালের দিকে লাইভস্ট্রিম ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরাইলি কমান্ডোরা নৌযানটিতে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ফ্লোটিলার একটি ছাড়া সবকটি জাহাজ আটকের দাবি করে ইসরাইল।এফএফসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন এই বহরে রয়েছে মোট ১১টি নৌযান এবং তাতে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রু আছেন।যাত্রার সময়: ইতালি ও ফ্রান্সের পতাকাবাহী দুটি নৌযান গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালির ওৎরান্তো বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
যুক্ত হওয়া নৌযান: পরে ৩০ সেপ্টেম্বর রওনা দিয়েছে আরও ৯টি নৌযান। শিগগিরই সেগুলো অগ্রবর্তী জাহাজগুলোর কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বহর হিসেবে গাজার দিকে এগিয়ে যাবে।ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) জোটটি গঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। এটি ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লেবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা—এই চার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত। গত ১৭ বছরে জোটটি বেশ কয়েকবার গাজায় ত্রাণ পাঠিয়েছে।
গত আগস্ট মাসে এফএফসি জোট গাজায় খাদ্য ও ওষুধবাহী ৪৩টি নৌযান পাঠানোর ঘোষণা দেয় এবং এই মিশনের নাম দেওয়া হয় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।এই মিশনে সুইডেনের আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ও রাজনীতিবিদ মান্ডলা ম্যান্ডেলাসহ ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক ছিলেন। এই নাগরিকরা ছিলেন পার্লামেন্টারিয়ান, আইনজীবী, রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী।
গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এই ফ্লোটিলা। কিন্তু গাজার জলসীমার কাছাকাছি যাওয়ার পরপরই ইসরাইলের নৌবাহিনী একটি ব্যতীত সবগুলো নৌযান আটক করে। শেষ জাহাজটিও ইসরাইলি বাহিনী দখলে নেওয়ায় মানবিক এই মিশনটি আপাতত ইসরাইলের বাধায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। এর প্রতিক্রিয়ায়ই নতুন করে নৌযান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এফএফসি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন