নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপার টর্পেডো ‘পসাইডন’-এর সফল পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মস্কোর একটি হাসপাতালে আহত সৈন্যদের দেখতে গিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। পুতিন বলেন, ‘এর মতো অস্ত্র বিশ্বের আর কোথাও নেই।’ এই ঘোষণার পর ইউরোপজুড়ে নতুন করে সামরিক উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গ্রিক পুরাণের সমুদ্রদেবতার নামে নামকরণ করা এই ‘পসাইডন’ টর্পেডো সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি ভয়াবহ অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই সুপার টর্পেডো সমুদ্রের নিচে বিশাল তেজস্ক্রিয় ঢেউ (সুনামি) তৈরি করতে সক্ষম, যা দিয়ে শত্রুপক্ষের উপকূলীয় শহর ও নৌ ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রথম এই অস্ত্রের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন।
রুশ গণমাধ্যমের দাবি, ‘পসাইডন’ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে এবং এর গতিপথ শনাক্ত করা বা একে প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।রাশিয়ার এই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ২১ অক্টোবর রাশিয়া ‘বুরেভেস্তনিক’ নামের একটি নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছিল। দেশটির দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
তবে অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক রাশিয়ার এসব ঘোষণাকে সামরিক সক্ষমতার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবেই দেখছেন। রাশিয়া-বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বিবিসিকে বলেছেন, এগুলো পৃথিবী ধ্বংসকারী ‘আর্মাগেডন অস্ত্র’, যা কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়ায় এবং পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্বের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাইছেন।
পুতিনের এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলো ‘পারমাণবিক নয়’, বরং এগুলো ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ডেলিভারি সিস্টেম বা যানগুলোর সক্ষমতা যাচাই মাত্র। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর বড় কোনো সাফল্য না থাকলেও মস্কোর এই নতুন শক্তি প্রদর্শন ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন