নভেম্বর ২, ২০২৫, ১০:২০ এএম
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তিনি একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডকে ওই বিজ্ঞাপনটি প্রচার না করার জন্যও বলেছিলেন বলে জানান।
শনিবার (০১ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় শীর্ষ সম্মেলনে (এপেক) অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী কার্নি এ কথা জানান।মার্ক কার্নি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ‘আমি প্রেসিডেন্টের কাছে (ঘটনাটির জন্য) ক্ষমা চেয়েছি,’—বলেন কার্নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিতর্কিত ওই বিজ্ঞাপনটি অন্টারিও প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের একটি পুরোনো বক্তব্য ব্যবহার করা হয়, যেখানে রেগান বলেছিলেন, ‘শুল্ক আরোপ বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করে।’
এই বিজ্ঞাপনটি এমন এক সময়ে প্রচার করা হয় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছিল। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কানাডার পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেন এবং ওয়াশিংটন কানাডার সঙ্গে চলমান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে দেয়।প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানান, বিজ্ঞাপনটি প্রচারের আগেই তিনি ডগ ফোর্ডের সঙ্গে তা পর্যালোচনা করেছিলেন, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে এটি সম্প্রচারের বিরোধিতা করেন। কার্নি বলেন, ‘আমি ফোর্ডকে বলেছিলাম, আমি চাই না বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হোক।’
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, নৈশভোজে তার সঙ্গে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর ‘খুব সুন্দর’ আলাপ হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে স্থগিত হওয়া বাণিজ্য আলোচনা আপাতত পুনরায় শুরু হচ্ছে না।এশিয়া সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কার্নি আরও জানান, তিনি শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন, যাকে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে একাধিক কানাডিয়ান নাগরিক আটক ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এবং কানাডার নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। কার্নি জানান, শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছেন।তিনি বলেন, তার এই এশিয়া সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার নির্ভরতা কমানো। কার্নি বলেন, ‘এটা রাতারাতি সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা খুব দ্রুত সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছি।’



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন