নভেম্বর ২, ২০২৫, ১২:০২ পিএম
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মানবিক সংকট কমছে না, বরং ইসরায়েলি বাধার কারণে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণ ও বাণিজ্যিক পণ্যের ৭৬ শতাংশই আটকে রেখেছে।
শনিবার (০১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে গাজার মিডিয়া অফিস জানায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ৬০০ ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গত ১০ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় সরবরাহ পৌঁছাতে পেরেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে, যা নির্ধারিত পরিমাণের মাত্র ২৪ শতাংশ।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবেই ত্রাণ ও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে গাজার ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং মানবিক সংকট ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দুই বছরের সামরিক হামলায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও ড্রোনের ক্রমাগত উপস্থিতির কারণে তারা তথাকথিত ‘হলুদ রেখার’ কাছাকাছি কিছু নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত রুট পরিবর্তনের কারণে সাহায্য সংগ্রহ কমে গেছে এবং ত্রাণ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি গাজায় আরও মানবিক সহায়তা পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ক্রসিং ও অভ্যন্তরীণ রুট খোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বিক্ষিপ্ত ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৯৪ জন আহত হয়েছেন।অন্যদিকে, ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে হামাস গাজায় থাকা নিহত ১৩ জন ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ ফেরত না দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
তবে হামাস এই অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বন্দীদের মরদেহগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। সেগুলো অনুসন্ধানের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজারের প্রয়োজন, কিন্তু ইসরায়েলই সেসব সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, যে কারণে উদ্ধার প্রচেষ্টা কঠিন হয়ে পড়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন