নভেম্বর ২২, ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি জিনাত আরা মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে জমি রেজিস্ট্রেশনে খরচ অস্বাভাবিক বেশি। তিনি বলেন, "আমাদের দেশে জমি রেজিস্ট্রেশনে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্সসহ এত বেশি টাকা দিতে হয়—আমার মনে হয় পৃথিবীর আর কোনো দেশে জমি রেজিস্ট্রেশনে এত বেশি খরচ হয় না।"
শনিবার আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিবন্ধন আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
জিনাত আরা জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় চলমান প্রতারণার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশে জমির রেজিস্ট্রেশনের সময় অনেক ক্ষেত্রে জমির প্রকৃতি ও শ্রেণির পরিবর্তন দেখানো হয়।
বাস্তবে জমির শ্রেণি একরকম থাকলেও কাগজে অন্যরকম দেখানো হয়।" তিনি অভিযোগ করেন, দলিলে প্রতারণার মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কর ফাঁকি দেওয়া হয়; কিন্তু এ ধরনের প্রতারণায় সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।ডিজিটালাইজেশন ও শাস্তির গুরুত্বমতবিনিময় সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. নাইম আহমেদ বলেন, এই নিবন্ধন আইন সংশোধনীর একটি ঐতিহাসিক দিক হলো ডিজিটালাইজেশন।
তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; পুরো পদ্ধতিটিকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জমি রেজিস্ট্রেশনে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রারদের এখন শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে আইনজীবীরাও সম্ভবত এই আওতায় আসবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটালাইজ করা গেলে হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক কাজী আবদুল হান্নান, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব রুহুল আমীন ও এম এ আউয়াল, দ্যা ল' মেন্টর লিমিটেডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এহসান হক, প্রতিষ্ঠানটির এমডি অ্যাডভোকেট নাশিত রহমান, সলিসিটর মো. মঞ্জুরুল হোসেন, বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রহমানসহ অনেকে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন