সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গুমের মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ১০:৫৯ এএম

গুমের মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির

আওয়ামী শাসনামলে সমন্বিত গোপন বন্দিশালা টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুমের ঘটনায় দায়ের করা এক চাঞ্চল্যকর মামলায় সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ হাজির করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের গাড়িতে করে কঠোর নিরাপত্তায় তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১৭ জন।

এই আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর মতো উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি হচ্ছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বর্তমানে কারাগারে থাকা গ্রেপ্তারকৃত ১০ সেনা কর্মকর্তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম,

ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।অন্যদিকে, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ আরও সাতজন আসামি পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল। সেই সময় অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাদের ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজির হলে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর শুনানির জন্য আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। উচ্চপর্যায়ের এসব আসামিদের বিরুদ্ধে গুম এবং গোপন বন্দিশালা পরিচালনার অভিযোগ ওঠায় আইন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মামলাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।