জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
গুম-খুনের অপরাধে যদি একজন মানুষেরও বিচার করতে হয়, সেটা হবে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত ধরনের পরিকল্পনাই হোক, বাংলাদেশে গুম-খুনের বিচার হবেই।"— রোববার (৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ এ শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের দায়ে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুনের যে ‘মহাকাব্যিক যাত্রা’ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে ‘নিষ্ঠুরতম ও কুখ্যাত’ ব্যক্তি হলেন জিয়াউল আহসান।
ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত ৩টি লোমহর্ষক অভিযোগ: শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ জিয়াউলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে, যা উপস্থিত সবার গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো:১. বাইপাস সড়কে হত্যা: ২০১১ সালের ১১ জুলাই র্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজনকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে গাড়ি থামিয়ে হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
২. গেস্হাপো’ বা ‘গলফ’ মেথড: বরগুনার পাথরঘাটা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউলের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট’। গভীর রাতে বন্দীদের ট্রলারে করে নদীর মাঝখানে নিয়ে বুকে বা মাথায় বালিশ চেপে গুলি করা হতো। এরপর পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতির কোডনাম ছিল ‘গেস্হাপো’ বা ‘গলফ’। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্যসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
৩. সুন্দরবনে ভুয়া বন্দুকযুদ্ধ: তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে আটককৃতদের সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। ‘অপারেশন নিশানখালী’অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে এভাবে হত্যা করা হয়, যেখানে অনেক সময় জিয়াউল নিজে উপস্থিত থাকতেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন,জাতির স্বার্থে এই নিষ্ঠুরতম খুনির বিচার না হলে মানবতা ভুলুণ্ঠিত হবে। আসামিপক্ষ বিচার পেছানোর চেষ্টা করলেও আইনের হাত অনেক লম্বা।শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে এবং আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন