সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির প্রথম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির প্রথম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেশের প্রথম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু রাজাকার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। 

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন এবং কাকতালীয়ভাবে ঠিক ১৩ বছর পর একই তারিখে তিনি আত্মসমর্পণ করলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ গত বছর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁর আবেদন আমলে নিয়ে একটি শর্তসাপেক্ষ আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশে বলা হয়েছিল, আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তাঁর দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হবে। 

সেই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আপিল করার সুযোগ গ্রহণ করতেই দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তিনি প্রকাশ্যে এসে আত্মসমর্পণ করলেন।মাওলানা আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মোট ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই প্রমাণিত হয়। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১৪ জনকে হত্যা এবং ৩ নারীকে ধর্ষণ।

৯ জনকে অপহরণ এবং ১০ জনকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা।

৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন।

৩টি অভিযোগে তাঁকে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৪টি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রধান সাজা মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সেগুলোতে আলাদা দণ্ড ঘোষণা করেনি ট্রাইব্যুনাল। একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই মাওলানা আজাদ সুকৌশলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে পাড়ি জমান বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর আত্মসমর্পণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আনল। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।