শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি আজ

সুপ্রিম কোর্ট

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বৃদ্ধির আবেদনের ওপর আজ শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। 

মূলত ট্রাইব্যুনালের রায়ে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের যে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার আর্জি জানিয়েছে প্রসিকিউশন পক্ষ। আজ আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধানত শুনানি করবেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের অনুগত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। 

এসব অভিযোগের বিচার করতে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে সাজা প্রদান করেন। একটি অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও অন্যটিতে দেওয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড। প্রসিকিউশন পক্ষ মনে করছে, অপরাধের যে ধরণ এবং গুরুত্ব, তাতে সকল অভিযোগেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই লক্ষ্যেই আটটি সুনির্দিষ্ট যুক্তির ভিত্তিতে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জন সাক্ষী তাঁদের জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষীদের তালিকায় ছিলেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেনসহ অসংখ্য স্বজনহারা পরিবারের সদস্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রবীণ সাংবাদিক ড. মাহমুদুর রহমান। 

মামলার শুরু থেকেই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এই মামলার অন্যতম আসামী ও রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সহায়তা করায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার পেছনে যে আটটি যুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেখানে গণহত্যার পরিকল্পনা, সরাসরি নির্দেশ প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উসকে দেওয়ার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে এই শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে দুটি বেঞ্চে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোর বিচার চলছে। আজকের আপিল বিভাগের শুনানির দিকে দেশবাসীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে, কারণ এটিই হবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের দণ্ড সংক্রান্ত প্রথম কোনো বড় আপিল শুনানি।

সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ আইনজীবী ও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আপিল শুনানি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে একই ধরণের অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। আজকের শুনানিতে আদালত পরবর্তী কোনো তারিখ নির্ধারণ করবেন নাকি সরাসরি যুক্তিতর্ক শুনবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।