ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রূপপুর প্রকল্পে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর এই প্রকল্পে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও মোটা অঙ্কের ঘুষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিনিময়ে অদক্ষ ও দেশবিরোধী ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে।
এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জাল শিক্ষাগত সনদ এবং ভুয়া অভিজ্ঞতাপত্র ব্যবহার করে চাকরিতে স্থায়ী করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড বা এনপিসিবিএলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।অনুসন্ধান ও রিটের নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ প্রায় এক হাজার ৮০০ জনের বেশি জনবল নিয়োগ দেয়।
তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়ার রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে জালিয়াতির তথ্যগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। দক্ষ জনবলের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ ও ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে বলে রিটে দাবি করা হয়। আদালত পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই আদেশ প্রদান করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন