অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
পঞ্চগড়ের একটি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ বা টিআর কর্মসূচির আওতায় সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণে অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলের অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নথিপত্রের ব্যয়ের হিসাবে একাধিক গরমিল প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়টিতে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের জন্য টিআর প্রকল্প থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থ থেকে ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়ে একটি প্রজেক্টর কেনার কথাও বলা হয়। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, টিনশেড গ্যারেজটিতে এখনো পুরনো কাঠ ও টিন ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই সাইকেল গ্যারেজ ছিল। এবার কেবল মেঝে পাকা করা এবং কয়েকটি টিন ও কিছু কাঠ বদলে আংশিক সংস্কার করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত না করে নিজের মতো ভাউচার তৈরির অভিযোগও উঠেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুবেল প্রমাণিক জানান, গ্যারেজের মূল কাঠামো আগেরই ছিল, নতুন করে কেবল পিলার দেওয়া হয়েছে, মেঝে পাকা হয়েছে, দক্ষিণ পাশে একটি হাফ দেওয়াল এবং পূর্ব পাশে ছোট একটি বারান্দা তৈরি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্প কমিটির এক সদস্য জানান, বিদ্যালয়ের পুরনো ইট ভেঙে তৈরি করা খোয়া দিয়েই মেঝে পাকা করা হয়।
ব্যয় বিবরণীতে সোনাহার বটতলী এলাকার এম এস স্যানেটারি নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ হাজার ৮০০ টাকার খোয়া, বালু ও পিলার কেনার ভাউচার দেখানো হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মশিয়ার রহমান ও কর্মচারী জিয়া জানান, বিদ্যালয় থেকে একজন এসে দরদাম জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে কোনো মালামাল কেনা হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া ১১৬২ নম্বর ভাউচারটি যাচাই করে দেখা যায়, সেটি প্রধান শিক্ষক নিজের হাতে লিখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দোকানের মূল কার্বন কপি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
প্রকল্পের এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে জমা দেওয়া ১০টি ভাউচারে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ১৬১ টাকা। অর্থাৎ এখনো ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা অব্যয়িত রয়েছে। অথচ সরকারি বরাদ্দে ঘাটতি দেখিয়ে প্রজেক্টর কেনার নামে বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার রায় তহবিল থেকে ওই অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে কেনাকাটার ভুয়া হিসাব, অব্যয়িত অর্থ ও বিদ্যালয় তহবিলের টাকা মিলিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোনাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে সামনাসামনি কথা বলবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা জানিয়েছেন, প্রকল্প কিংবা বিদ্যালয়ের তহবিলের অর্থ নয়ছয়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন