মার্চ ৩০, ২০২৬, ১১:২০ এএম
বিগত এক-এগারোর বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই সরকারের কুশীলবদের গোপন বৈঠকের তথ্য উঠে এসেছে। রিমান্ডে থাকা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার কারামুক্তির আগ পর্যন্ত গভীর রাতে তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বৈঠকের সমন্বয় করতেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন। ভারতের পরিকল্পনায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমদের পক্ষ থেকে এসব বৈঠক পরিচালিত হতো বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত গতকাল রোববার পল্টন থানার একটি মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে এক-এগারোর সরকার গঠনের মূল পরিকল্পনায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যান্ডালাইসিস উইং বা র-এর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। ২০০৬ সালের শেষদিকে তৎকালীন বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এই পরিকল্পনা শুরু হয় এবং জাতিসংঘের নামে ভুয়া চিঠি তৈরি করে ক্ষমতা দখলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে মাসুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় যেতে চায় নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে থাকেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে লগি-বৈঠা দিয়ে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকেই ক্ষমতা দখলের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিল ১/১১-এর কুশীলবরা। তিনি আরও জানান, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মাইনাস করে দীর্ঘ ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার নীল নকশা করেছিল ওই সরকার।
রিমান্ডে থাকা আরেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই প্রধান থাকাকালে তিনি সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের ওপর নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের এই আবাসন প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি নয়ছয় করার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এছাড়া এক-এগারোর সময় চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তার মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পাচার করা বিপুল অর্থ উদ্ধার এবং সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন