মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পদমর্যাদা বিবেচনা করা হবে না বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, মামলার তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত যারাই জড়িত থাকবে, তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।
কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার শাপলা চত্বরের এই আলোচিত মামলায় পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মন্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর পরপরই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে যে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল, সেই সংক্রান্ত মামলার তদন্ত বর্তমানে একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুব দ্রুতই আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বাংলাদেশে যতগুলো `ক্রসফায়ার` বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অপরাধীদের ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ের দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়েও প্রসিকিউশনের অবস্থানের কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সারা দেশে যত মামলা হয়েছে, সবগুলোর তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রসিকিউশন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।
এছাড়া `ওয়ান ইলেভেন` বা ১/১১ সময়ের আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও যাদের নাম জড়াবে, তাদের কাউকেই বিচারের বাইরে রাখা হবে না। জাতীয় এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব স্তরের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন