রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, চাঞ্চল্যকর তথ্য

ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ক্যামেরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। বুধবার ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তানভীর জোহা জানান যে গত বছরের ১৩ অক্টোবর সিসি ক্যামেরা থেকে গায়েব হওয়া সেই ফুটেজটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে সিসলগগুলোতে যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিল, সেখানে কিছু পুরনো ও নতুন হার্ডড্রাইভের রদবদল বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সিসলগ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার খাতা পর্যালোচনা করে এই অসংগতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানা যায় যে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় অভিযুক্ত আফজালুলের পরিবারের এক সদস্য অন্য এক প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের রুমে টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। সেই দিন আসলে কী ঘটেছিল তার সত্যতা যাচাই করতেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু হার্ডড্রাইভে সেই দিনের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা জানান যে বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। হার্ডড্রাইভ বদলের সুনির্দিষ্ট তারিখটি তাৎক্ষণিকভাবে মনে করতে না পারলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এটি গত বছরের ঘটনা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা হয়েছে কি না সে সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

একই ব্রিফিংয়ে তানভীর জোহা ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মূর্তাজা মজুমদারের ব্যক্তিগত ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হ্যাকারদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আইনি জটিলতা এড়াতে এই মুহূর্তে হ্যাকারদের আইপি অ্যাড্রেস প্রকাশ করা না হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন। ট্রাইব্যুনালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন নিরাপত্তা ঘাটতি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।