রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে চিঠি আদালত অবমাননাকর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে চিঠি আদালত অবমাননাকর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে লন্ডন থেকে পাঠানো একটি চিঠিকে সরাসরি আদালত অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে বিদেশি ল‍‍`ফার্মের মাধ্যমে এভাবে চিঠি পাঠানোর আইনি কোনো সুযোগ বাংলাদেশে নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ল‍‍`ফার্ম ‍‍`কিংসলি ন্যাপলি‍‍` ই-মেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অন্যায্য দাবি করে রায় বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়। 

একই সাথে পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে এই চিঠির বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জবাব দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করে প্রতিষ্ঠানটি।চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এই উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিচার চলাকালীন আসামি উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল বিধি অনুযায়ী তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করেছিলেন। 

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার একমাত্র এখতিয়ার রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের। আদালতের বাইরে কোনো বিদেশি সংস্থার এমন হস্তক্ষেপ বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার শামিল।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

ওই আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছিল। বিদেশি ল‍‍`ফার্মের পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদেশি চিঠির কোনো আইনি ভিত্তি এখানে কার্যকর হবে না।