এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
চট্টগ্রামে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। অভিযুক্তরা সবাই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
যাদের মধ্যে ১৮ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধেই আজ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হলো। মামলার আসামিদের তালিকায় সাবেক মন্ত্রীদ্বয় ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন ও রেজাউল করিমের নাম রয়েছে।তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার ২২ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমসহ মোট চারজন ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক থাকা বাকি ১৮ জনকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, মোহাম্মদ ফিরোজ, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু এবং দেবাশীষ পাল দেবুসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী।উল্লেখ্য যে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অভিযুক্ত এসব শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে যান।
তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম বড় ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো। ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে আসছিলেন। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন