এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
সাবেক সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলার পর এবার একটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় তিন দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়।
ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তাঁকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী তাঁকে `ফ্যাসিস্টের সহযোগী` হিসেবে আখ্যায়িত করে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
এ সময় আদালতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে প্রশ্ন রাখেন যে, মিরপুরের এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইতোমধ্যে তিনি টানা ১৪ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাঁর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন এবং পরবর্তীতে ২১ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন