জুন ৩, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার মধ্যে একটি মামলায় অবশেষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একই সঙ্গে বাকি ছয়টি মামলায় তাকে কেন চূড়ান্ত জামিন দেওয়া হবে না, তা বিশদ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিবাদী পক্ষের দায়ের করা আবেদনের দীর্ঘ শুনানি শেষে এই সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক আদেশ প্রদান করেন।দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আইনি সিদ্ধান্তের ফলে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় তৈরি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে যে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দীপু মনির এই জামিন আবেদনের ওপর আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং দেশব্যাপী সহিংসতার নির্দেশনা দেওয়াসহ প্রায় ৩৮টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই বিপুল সংখ্যক মামলা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের চলমান রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার একটি প্রধান অংশ।
উল্লেখ্য যে বিগত ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে ডা. দীপু মনি পর্যায়ক্রমে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উচ্চ আদালতে দীপু মনির পক্ষে শুনানি করেন দেশের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। সুনির্দিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী দাপ্তরিকভাবে জানিয়েছেন যে জামিন পাওয়া মামলার নথিপত্র যথাযথ যাচাই শেষে তাঁর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন