অক্টোবর ২১, ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা ‘আয়নাঘর’ গুম মামলায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একাধিক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই মামলার সকল আসামিকে আগামীকাল বুধবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৯ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই গুমের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক এবং র্যাব ও ডিজিএফআইতে কর্মরত তৎকালীন ১৫ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এই পরোয়ানা জারির পরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরোয়ানায় উল্লিখিত বাহিনীতে কর্মরত ১৫ জন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান সে সময় দ্ব্যর্থহীনভাবে বিচারের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।”
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (প্রসিকিউটর) গাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন তামিম সাংবাদিকদের জানান, “গুমের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, আগামীকাল তাদের হাজির করা হতে পারে। তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল জামিনের ভিত্তি পর্যালোচনা করে তাদের জামিন দিতে পারেন অথবা কারাগারেও পাঠাতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, যারা পলাতক রয়েছেন (যেমন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান), তাদের হাজির করা না হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেবেন এবং হাজির হওয়ার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, আসামিদের বিরুদ্ধে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ এবং ‘টিএফআই সেল’-এর মাধ্যমে মোট ৩৪টি ভয়াবহ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন