রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সেনা কর্মকর্তারা আত্মসমর্পণ করেছেন: ব্যারিস্টার সারোয়ার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১১:৩২ এএম

সেনা কর্মকর্তারা আত্মসমর্পণ করেছেন: ব্যারিস্টার সারোয়ার

ছবি - সংগৃহীত

দেশের আইন ও বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে, র‍্যাব ও ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালনকারী ১৫ জন উচ্চপদস্থ বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার, ২২ অক্টোবর সকালে এই সেনা কর্মকর্তারা আদালতে উপস্থিত হলে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, এই কর্মকর্তারা পলাতক ছিলেন না বা তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং তারা আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর এই সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত তিনটি পৃথক মামলায় ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরোয়ানা জারির পর সেনা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সেনা সদরের হেফাজতে নেয়, যা সামরিক পরিভাষায় ‘অ্যাটাচ’ করা হিসেবে পরিচিত। আজ বুধবার ওই তিনটি মামলার নির্ধারিত তারিখ থাকায় সেনা সদর দপ্তর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে আনা হয়। সকাল ৮টার পর তিন মামলার ওপর শুনানি শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। শুনানির শুরুতেই ব্যারিস্টার সারোয়ার অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে ওকালতনামা দাখিলের অনুমতি চান, এবং আদালত সেই অনুমতি প্রদান করেন।

আদেশের পর ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তাদের আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আজ সকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হয়েছেন; পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে আনেনি। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, প্রশাসনিক সুবিধা, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার কারণে তাদের একটি বিশেষ গাড়িতে করে আনা হয়েছে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই গ্রেপ্তার নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, টেকনিক্যালি বা দাপ্তরিকভাবে প্রসিকিউশন হয়তো এটিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হিসেবে দেখছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে যা ঘটেছে তা হলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আত্মসমর্পণ। আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, তারা আদালতে মোট তিনটি আবেদন দাখিল করেছেন: একটি জামিনের আবেদন, একটি প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন সংক্রান্ত এবং অন্যটি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাবজেলে (বিশেষ কারাগার) রাখা সংক্রান্ত।

আদালত আবেদনগুলো গ্রহণ করলেও এগুলোর ওপর শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।আদালতের আদেশের পর এই ১৫ কর্মকর্তাকে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, সাবজেলে রাখার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে জেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে তাদের সেনানিবাসের ভেতরেই একটি নির্ধারিত স্থানে রাখা হবে, যেটিকে ইতোমধ্যে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মামলার যেসব আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।আজকের আদেশে যাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একাধিক আলোচিত নাম রয়েছে। এই তালিকায় আছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান,

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে. এম. আজাদ এবং বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান ও কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন। এ ছাড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলমকে।

একইসঙ্গে ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকেও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং তাদের জামিন আবেদনের শুনানির দিকে এখন সবার দৃষ্টি থাকবে আগামী ২০ নভেম্বর।