মে ১১, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের জনপ্রিয়তা থাকলেও রান্নাঘরের সব সাধারণ উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন ভিডিওতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ‘বিউটি টিপস’ সাময়িকভাবে কার্যকর মনে হলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু উপাদান ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে সংক্রমণ বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
চিনি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা ত্বকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিনির দানাদার অংশ ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি করে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে গরম পানি মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেলের স্তর নষ্ট হয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। বেকিং সোডা একটি ক্ষারজাতীয় উপাদান হওয়ায় এটি ত্বকের পিএইচ (pH) মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
ব্ল্যাকহেড পরিষ্কার করতে অনেকে আঠা ব্যবহার করলেও এটি লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ করে জটিলতা তৈরি করে। লেবুর রসের ব্যবহার ত্বকের সেই সুরক্ষাপ্রাচীর নষ্ট করে দেয়, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
এছাড়া ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।কাঁচা আলুর রস ত্বকের কালো দাগ হালকা করার বিষয়ে কোনো ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। বরং এতে থাকা সোলানিনের মতো অ্যালকালয়েড ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হলে বিষক্রিয়া বা জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। আলুর রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো বাতাসের সংস্পর্শে দ্রুত ভেঙে যায়, ফলে এর কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সংবেদনশীল ত্বকে এটি অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।
কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকতে পারে। এটি ত্বক বা চোখের সংস্পর্শে এলে গুরুতর সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডিমের সাদা অংশ ব্যবহারের পর ত্বকে যে টানটান ভাব আসে, সেটি আসলে শুকিয়ে যাওয়া প্রোটিনের একটি আস্তরণ মাত্র। এটি ত্বককে ভেতর থেকে টানটান করে না কিংবা বার্ধক্য রোধেও কোনো ভূমিকা রাখে না। ত্বকের যত্নে যেকোনো ভাইরাল ঘরোয়া উপায় অনুসরণের আগে এর বিজ্ঞানভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন