আগস্ট ১২, ২০২৬, ১১:২১ এএম
দিন দিন কমে যাওয়া বনভূমি এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের সংকটের কারণে পৃথিবীর বৃহত্তম স্থলচর প্রাণী হাতির অস্তিত্ব আজ বহুমুখী হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাণীটি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর সুরক্ষায় বৈশ্বিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বারো আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়। ২০১২ সালে কানাডীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমস, মাইকেল ক্লার্ক এবং থাইল্যান্ডের একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই দিবস পালনের সূচনা হয়েছিল।
এশিয়া ও আফ্রিকার হাতিদের আবাসস্থল রক্ষা করার মূল লক্ষ্য নিয়ে এই দিবসটি যাত্রা শুরু করে।প্রথম বিশ্ব হাতি দিবসে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র বন্দিদশা থেকে এশীয় হাতিদের বনে ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। এর পর থেকেই পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক শতাব্দীতে এশীয় হাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং আফ্রিকান হাতিরাও একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।বাংলাদেশের বনাঞ্চলগুলোতেও বন্য হাতির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বনাঞ্চলে হাতির চলাচলের করিডোর সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতি স্থাপন এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে মানুষের সঙ্গে হাতির দ্বন্দ্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাতি সুরক্ষায় কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বন্যপ্রাণীর এই প্রজাতিটি আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন