সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
ঘরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে দেয়ালের রং অক্ষুণ্ণ রেখে কোণায় জমে থাকা ধুলা, ময়লা ও মাকড়সার জাল দূর করার কিছু সহজ ও নিরাপদ কৌশল রয়েছে।
পরিষ্কারের শুরুতে কখনো ভেজা কাপড় দিয়ে সরাসরি মাকড়সার জাল মুছতে যাওয়া ঠিক নয়। এতে জাল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে দেয়াল আরও নোংরা হতে পারে। নরম ডাস্টার, পরিষ্কার পালকের ঝাড়ন কিংবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের নরম ব্রাশ দিয়ে উপর থেকে নিচের দিকে ঝুল ঝেড়ে ফেলে মেঝেতে পড়া ময়লা তুলে ফেলাই সঠিক নিয়ম। দেয়ালের কোণার আলগা ধুলা সরাতে মাইক্রোফাইবার ডাস্টার বা নরম কাপড় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেশি চাপ না দিয়ে উপর থেকে নিচের দিকে আলতোভাবে মুছতে হবে। উঁচু স্থানের জন্য লম্বা হাতলযুক্ত ডাস্টার বা মপের মাথায় মাইক্রোফাইবার কাপড় আটকে নিলে মই ছাড়াই সহজে পরিষ্কার করা সম্ভব।
ব্রাশ অ্যাটাচমেন্টযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেও কোণার জমে থাকা ধুলা ও ঝুল অপসারণ করা যায়। তবে সাকশন ক্ষমতা খুব বেশি না রাখা এবং দেয়ালের ওপর ভ্যাকুয়ামের শক্ত নজল সরাসরি চেপে না ধরাই শ্রেয়, যাতে কোনো দাগ বা আঁচড় না পড়ে। ঝাড়ু দেওয়ার পরও যদি ধুলা থেকে যায়, তবে মাইক্রোফাইবার কাপড় সামান্য পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিংড়ে নিয়ে দেয়ালের ছোট ছোট অংশ মুছতে হবে এবং তা স্বাভাবিক বাতাসে শুকাতে দিতে হবে। কোণায় তেলচিটচিটে বা হালকা ময়লার দাগ দেখা দিলে এক বাটি পানিতে কয়েক ফোঁটা তরল ডিশ সোপ মিশিয়ে নরম কাপড়ে নিংড়ে নিয়ে দাগের ওপর আলতোভাবে মোছা যায়। তবে বৈদ্যুতিক সুইচ ও সকেটের আশপাশে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে।
জেদি দাগ দূর করতে সামান্য বেকিং সোডা ও পানির পাতলা পেস্ট নরম কাপড়ে নিয়ে ঘষা যেতে পারে। বেকিং সোডা সামান্য ক্ষয়কারী হওয়ায় ব্যবহারের আগে দেয়ালের কম দৃশ্যমান অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। ব্লিচ, অতিরিক্ত কড়া রাসায়নিক ক্লিনার, মোটা স্ক্রাবার বা মাত্রাতিরিক্ত পানির ব্যবহার এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ছত্রাক বা পানির দাগ দেখা দিলে কেবল ওপর থেকে পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, বরং আর্দ্রতার মূল উৎস খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নোংরা জমার অপেক্ষা না করে প্রতি এক বা দুই সপ্তাহ পর পর হালকা করে ধুলা ঝাড়লে দেয়াল টেকসই থাকে এবং ঘর পরিচ্ছন্ন দেখায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন