অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
বাংলাদেশের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তের পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের সুধীর মেম্বার পাড়া। ভূবৈচিত্রে ভরপুর এই পাহাড়ি গ্রামে পাহাড়ের টিলা ও ঢালের গায়ে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ জনপদ।
উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের এই গ্রামে প্রায় ১৬০০ জনের অধিক মানুষের বসবাস। এখানকার প্রায় ৩৬৬টি খানা বা পরিবারে পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝেও চিরায়ত বাঙালি ঘরোয়া সংস্কৃতি ও জীবনধারা বজায় রয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ বসতবাড়ি মাটি ও টিনের তৈরি। পাহাড়ের ঢালু ও উঁচু-নিচু ভূমির কারণে বসতবাড়িগুলো টিলার গায়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে।
এ অঞ্চলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা এখানকার পরিবেশকে সতেজ ও সজীব করে তোলে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে মাঝে মাঝে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং কাঁচা রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যাতায়াতে কিছুটা দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পাহাড়ের ঢালু ও উর্বর মাটিতে সুধীর মেম্বার পাড়ায় বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এখানকার প্রধান কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে ধান, পাহাড়ি কলা, লেবু, আদা, হলুদ এবং মাল্টা, পেঁয়াজা ও জাম্বুরার মতো ফলফলাদির বাগান। এছাড়া এখানকার চাষিরা সেতনালার চলমান জলধারায় জাল পেতে দারকিনা মাছের মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর দেশীয় মাছ শিকার করেন।
গ্রামের বাসিন্দারা বৈচিত্র্যময় পেশার সাথে যুক্ত রয়েছেন। কেউ কৃষি কাজ করেন, কেউ দিনমজুর, আবার কেউ ছোট ব্যবসা বা ফেরিওয়ালার পেশা বেছে নিয়েছেন। এছাড়া গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের মাধ্যমে অনেকেই বাড়তি আয় করছেন। পাহাড়ি পরিবেশে বসবাস করলেও শিক্ষার হার বাড়ছে এবং নতুন প্রজন্ম পড়ালেখার প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠছে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সুষম সহাবস্থানে সুধীর মেম্বার পাড়া পাহাড়ি প্রকৃতির বুকে এক অনন্য গ্রামীণ জনপদের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন