সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের গবেষণায় কফির দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। পাহাড়ের অনাবাদি জমি, ফলের বাগান কিংবা বনজ গাছের ছায়ায় চাষযোগ্য এই ফসল ঘিরে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর স্বপ্ন দেখছেন গবেষকরা। এতে অনুৎপাদনশীল জমিকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন কৃষি অর্থনীতি গড়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে।
গবেষণার শুরুটা হয় ২০০১ সালে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে। বিভিন্ন উৎস থেকে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দীর্ঘ পরীক্ষার পর ২০২৩ সালে ‘বারি কফি-১’ (রোবাস্টা) এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে ‘বারি কফি-২’ (অ্যারাবিকা) অবমুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি।
কৃষকদের মাঠে চারা পৌঁছানোর কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটির তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি মাঠভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে তিন থেকে চার কেজি কফি বীজ পাওয়া সম্ভব। যার প্রতি কেজির বাজারদর হতে পারে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে। আবার স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার টাকা। কফির পাশাপাশি কাজুবাদাম নিয়েও গবেষণা চলছে, যার চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে বারি’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এই কফি চাষের একটি বড় সুবিধা হলো, এটি বিদ্যমান ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আবাদ করা যায়। ফলে কৃষকদের নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়ে না।
সাবেক প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ড. মো. আলমগীর হোসেন ও ড. মো. আব্দুস সাত্তার জানান, পাহাড়ি পতিত জমিকে এই অর্থকরী ফসলের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আসবে। এর সঙ্গে চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধু উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, কাঁচা ফল বিক্রির চেয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ বেশি জরুরি। রোস্টিং, গ্রাইন্ডিং ও প্যাকেটজাত করার ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো পাহাড়েই গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের বীজ, ল্যাব সুবিধা এবং ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কফি রপ্তানির দরজাও খুলতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন