মে ৭, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিয়েকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি দাবি করেছেন, বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর নতুন স্ত্রীকে কখনোই দেখেননি।রফিকুল ইসলাম মাদানী তাঁর পোস্টে জানান, তাঁকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন যে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় নতুন স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং চাপের মুখে তিনি বিয়ে করেছেন। আবার কেউ দাবি করেন, টিকটকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মাদানী বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি যে এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনো দিন দেখিনি। এমনকি তাঁর সঙ্গে একবারের জন্য কথা পর্যন্ত হয়নি। টিকটকে তাঁর কোনো আইডি নেই এবং এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু বোঝেন না বলেও দাবি করেন। তিনি জানান, আইএমভির মাধ্যমে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী নারী-পুরুষরা তাঁদের তথ্য প্রদান করেন।
মাদানী আরও জানান, কয়েক মাস আগে আইএমভিতে তাঁর ফরম পূরণ করা হয়েছিল। এরপর উভয় পক্ষের সামাজিক অবস্থান ও পছন্দ মিলে যাওয়ায় সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয় এবং দুই পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ফরম পূরণের বিষয়টি তিনি অনেক আগেই প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। উপযুক্ত পাত্রী পাওয়ার সময়টি তাঁর স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন।
সংসার জীবন নিয়ে মাদানী দাবি করেন, আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনে তিনি প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা করেননি। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাঁর স্ত্রী যদি একবারও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করে থাকেন এবং কেউ তা প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি আছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ বলে দাবি করেন।
দ্বিতীয় বিয়ের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান আইএমভি এবং মাওলানা মামুনুর রশীদ কাসেমীকে নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন মাদানী। তিনি বলেন, আইএমভি শুধু এমন দুই পক্ষকে মিলিয়ে দিচ্ছে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। তারা কাউকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে না। পোস্টের শেষাংশে তিনি সমালোচকদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, অনেক বড় নেতার ব্যক্তিগত জীবনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা না হলেও তাঁর বৈধ বিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন