জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে শিয়া-সুন্নি বিভেদ ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহিম। মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি সতর্ক করেন।আগামী ২০৪৬ সালের মধ্যে বিশ্বে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।ইরানের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশগ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি দেশের কয়েকজন আলেম সমালোচনা করেন। এর জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় কে শিয়া আর কে সুন্নি তা দেখার সুযোগ নেই।
মুসলিম হিসেবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রধান কর্তব্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইসলামের ইতিহাসের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে রোমান সম্রাটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অন্য মুসলিম নেতার পক্ষ নিয়েছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহাবি।আগামী দিনের বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নিজস্ব গাণিতিক ও হাদিসভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ হলো সত্য স্বপ্ন, এই হাদিসের উল্লেখ করে তিনি একটি গাণিতিক হিসাব দেখান। তাঁর দাবি অনুযায়ী ১৯২৪ সালে খেলাফতের পতনের ঠিক একশ বছর পর ২০২৪ সাল থেকে নতুন উত্থান শুরু হয়েছে। এই হিসাব ধরে আগামী ২০৪৬ সালের মধ্যে পুরো পৃথিবী মুসলিমদের নেতৃত্বে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার কোরআনের সাথে মিলে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। পাশ্চাত্যের গবেষকরা মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অনেক তত্ত্ব পবিত্র ধর্মগ্রন্থে পেয়ে প্রতিনিয়ত ইসলাম গ্রহণ করছেন।রাষ্ট্রীয় পতন নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। নারী জাতিকে সম্মান না করলে এবং তাদের মর্যাদাহানি করলে যেকোনো সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পেছনেও এই কারণটি যুক্ত ছিল।
আফগানিস্তানে পশ্চিমা শক্তির পতনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একে শতাব্দীর পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।যে জাতি নারীদের পর্দায় রাখে এবং সম্মান করে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের হাতেই সুরক্ষিত থাকে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের আগস্ট এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনেও নারীদের প্রতি অবমাননা একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন