নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের মীমাংসা হয়েছে।
শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশের পর আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "জাতির ন্যায় বিচারের প্রতি যে তৃষ্ণা ছিল, ন্যায় বিচারের জন্য জাতির যে কোয়েস্ট ছিল, সেটি আজকে সম্পন্ন হয়েছে। অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।"
তিনি এই রায়কে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। রায় ঘোষণার পর তার পরবর্তী করণীয় কী হবে, এই বিষয়ে তাজুল ইসলাম রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমরা আশা করব সরকার ও রাষ্ট্র আদালতের এই রায়কে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদেরকে বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে এসে আইনের মাধ্যমে তাদের এই শাস্তি কায়েম করতে পারবে।" তিনি মূলত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই মামলায় আট হাজার সাতশো সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার বিশাল অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল আদালতের এই সিদ্ধান্তকে প্রমাণ করেছে যে, দেশের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তিও মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে বিচারের ঊর্ধ্বে নন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন