নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:২৯ পিএম
দেশে গত এক সপ্তাহে দফায় দফায় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছিল, সেটি ছিল স্মরণকালের ভয়াবহ কম্পনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ওই ভূমিকম্পের পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট সাতবার ভূমিকম্প টের পেয়েছে দেশবাসী।
প্রথম কম্পনটিতে ১০ জন নিহত ও ছয়শ’র বেশি মানুষ আহত হন।বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল কাঁপে, যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। আবহাওয়াবিদ রুবায়েত কবির জানান, সম্প্রতি যে ভূমিকম্প হয়েছে তারই আফটার শক এটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, বেশিরভাগ ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল হলো নরসিংদী, যা বার্মা প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোন।
এই প্লেটগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের কারণেই ভূমিকম্প হচ্ছে।তিনি ব্যাখ্যা করেন, পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত এবং এগুলো ভূগর্ভস্থ তরলের ওপর ভাসমান অবস্থায় থাকে। প্লেটগুলো একে অন্যকে ধাক্কা দেওয়া, সরে যাওয়া বা ফাটলের সৃষ্টি করার মধ্য দিয়েই শক্তি সঞ্চিত হয়। যখন সেই শক্তি শিলার ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন হঠাৎ ফাটল বা শিলাখণ্ডের সরে যাওয়ার ফলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরসিংদী অঞ্চলে ১৯৫০ সালের পর থেকে ৫ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার ১৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের ভূমিকম্পের প্রধান দুটি উৎস—ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ ফল্ট জোন—দুটোই অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত।হুমায়ুন আখতারের মতে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল আরও শক্তি সঞ্চয় করেছে। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে এমন কিছু সহজ প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন:নিজস্ব প্রস্তুতি: নিজের ঘরকে নিরাপদ রাখা, জরুরি সরঞ্জাম প্রস্ত্তত রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পূর্বপরিকল্পনা রাখা।জনসচেতনতা: জনগণকে ব্যাপকভাবে সচেতন করে তোলা এবং প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি রাখা।ভবন তদারকি: নিয়মিত মহড়া এবং অবৈধ, অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন