ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য নতুন এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় বাকি শিক্ষকদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
তাঁরা এই নীতিকে সরাসরি বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এর আশু পরিবর্তন দাবি করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৭ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
নতুন নীতিমালায় দেখা যায়, বিএড ডিগ্রি ছাড়াই পাঁচটি নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা সরাসরি দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।
এই বিষয়গুলো হলো হিন্দু ধর্ম, কৃষি, শারীরিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান। অপরদিকে, এই পাঁচটি বিষয় ব্যতীত অন্য সকল বিষয়ের শিক্ষকরা বিএড ডিগ্রি ছাড়া যোগদান করলে একাদশ গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন।ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বলছেন, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করা সত্ত্বেও নীতিমালার কারণে এক বিষয়ে নিযুক্ত শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি পাবেন, আর ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়ে একাদশ গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। এটি স্পষ্ট বৈষম্য।
উদাহরণস্বরূপ তাঁরা উল্লেখ করেন, কম্পিউটার সায়েন্সে কোনো শিক্ষক স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যোগদান করলে তিনি দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন, কিন্তু কোনো শিক্ষক বাংলা বা ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যোগদান করলে তিনি একাদশ গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। শিক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের গ্রেড বৈষম্য একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে পেশাগত অসন্তোষ সৃষ্টি করবে।
এছাড়াও সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) সম্পর্কিত একটি আলাদা বিষয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নীতিমালায় তারা উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হলেও সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে দেশের শিক্ষক সমাজ মনে করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই বৈষম্যমূলক ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করে সকল শিক্ষকের জন্য সমতাভিত্তিক বেতন গ্রেড নিশ্চিত করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন